Thursday, April 23, 2009

ফুল, পাখি, দাদা ম্যাচ, রাজহাঁস, দেবদারু গাছ আর আমাদের সম্পর্ক: একটি কবিতার বই পাঠের অভিজ্ঞতা


যখন কথা বলি, প্রথমেই ভাবি অনেক সহজ করে অল্প কথায় বলব। প্রচুর বলি, ঘুরিয়ে বলি, পেঁচিয়ে বলি, সহজ আর হয় না। অন্য অনেক কিছু হয়। গদ্য প্রথম প্রথম দীর্ঘ বাক্যে লিখতাম। এখন ছোট। দীর্ঘ বাক্যে শব্দ আর তাদের সম্পর্ক ছাড়িয়ে কখনও কখনও অন্য দ্যোতনাও এসে হাজির হয়েছে, জ্ঞাতে, অজ্ঞাতে। পড়ে নিজেই উচ্ছ্বসিত হয়েছি। ছোট বাক্যে তা বড় একটা আসে না। এই যে বর্তমান শব্দ, শব্দের পরিক্রমণ, শব্দের সম্পর্ক ছাপিয়ে অন্য কিছু আসা, অন্য কোনও ভাব আসা, অন্য কোনও উচ্ছ্বাস হাজির হওয়া, অনেক অনেক দিন পর, আর একবার পেলাম আনসার আলীর কবিতায়; 'ফুল, পাখী ও অন্যান্য' কাব্যগ্রন্থে। একবার পেয়েছিলাম সেই কুমার নদীতে। ছোট্ট ডিঙি নৌকার সাথে আকবর বাদশার সম্পর্ক। একবার গাঁদা ফুলের সাথে সম্পর্ক হতে দেখেছিলাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের, সেন্ট মার্টিন যেতে যেতে। সেসব কথা এখন বলতে গেলে অন্য অনেক কথা বলা হবে, কিন্তু সেই সহজ ও সাবলীল সম্পর্ক আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আমি যখনই কোনও বই বাসায় আনি, প্রথম কয়েকদিন বইটা পড়ি না। রাখি। কাছে কাছে রাখি। শোবার সময় মাথার কাছে, পড়ার টেবিলে, খাবার টেবিলে, এমনকি মেঝেতে সতরঞ্চি বিছিয়ে চা খেতে খেতে বইটা নাগালের মধ্যে রাখি। দেখি। নাড়ি। চাড়ি। পড়ি না। একসময় পড়ি। আনসার আলির বইটাও তাই। পড়ছিলাম না। রাখছিলাম। সেই ফাঁকে পড়ে ফেলল আমার ছয় বছরের কন্যা। পড়ে সে কিছুই বোঝেনাই। না অর্থ, না তার অন্তর্গত ভাব। সেসব তার অজানা। কিন্তু কয়েকটা শব্দ আর শব্দগুচ্ছ, তাকে বড় আনন্দ দিল। আমাকে ডেকে বলল, 'বাবা দেখ, লিখেছে, মানুষের ভিতরে থাকে মানুষ। বাইরে দেবদারু গাছ।' কী মজা, তাই না বাবা? বাবা, আমার ভিতরে কি মানুষ আছে? বাবা, আমার বাইরে কি দেবদারু গাছ?

আমি বড় চমকে যাই। আমি বড় শব্দহীন হয়ে যাই। আমি ছুটে চলে যাই আনসার আলীর কাছে। আমি দেবদারু গাছের পাতার কাছে গিয়ে বসে থাকি। তার মধ্যে সন্ধান করতে থাকি এক অচেনা মানুষের। আমি আমাকে দেবদারু গাছের মতো করে চিড়ে তার ভেতরের মানুষটার কাছাকাছি চলে যেতে চাই। যেতে গিয়ে আবিষ্কার করি, আমার করাতে সেই আগের ধার আর নাই।

আনসার আলীর বইয়ের ভূমিকা পড়ে জানতে পারি, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির যন্ত্রের শব্দের ফাঁক গলে গলে তার কাছে আসে কবিতার শব্দবন্ধ আর তাদের সম্পর্কের পরম্পরা। তারা এসে একে অপরের সাথে সম্পর্ক করতে থাকে। কিংবা সম্পর্ক করতে করতে তারা আসে। যেমন সম্পর্ক করে আমাদের শহরে একদিন এসে যায় একজন আনসার আলী আর দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি। কথাটা শোনামাত্র একজন কবি আনসার আলী আলাদা মনোযোগ পেয়ে যায়। আমার কাছেও তাই পেয়েছিল। ফলে আনসার আলীকে চিনতে আমি ভুল করে ফেলি। আর আনসার আলী আমার কাছ থেকে দূরে চলে যান। আমি স্পষ্টই বুঝি যে তিনি দূরে চলে গেলেন। তখন আমি তার নাগাল পেতে চাইলাম। দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির যন্ত্র আর যন্ত্রণা আমি বন্ধ করতে চাইলাম। আনসার আলীর বইটাতে একটা ব্রাউন পেপারের মলাট দিয়ে দিলাম। রেখে দিলাম অন্য শতেক বইয়ের ফাঁকে। আমার মেয়ে কয়েকদিন বইটা খুঁজে খুঁজে হয়রান হল। ভাবল তার মজার ছড়ার বইটা বুঝি গেল। এও আরেক সম্পর্ক। আমার ছয় বছরের মেয়ের কাছে কেন কবিতা ভালো লাগবে? পুরো কবিতা ওর ভালো লাগে না। ভালো লাগে একটা লাইন। ওর ভালো লাগে, 'এতটুকু উঠানে এতো রাজহাঁস ক্যানো?' এই কথাটি। জানি না এই কথা ওর কাছে এসে কী সম্পর্ক করে। আমি কোনওদিন তা জানতে পারব না।

আমার বড় বিপদ। আমি আনসার আলীকে মলাট দিয়েও ভুলে যেতে পারি না। শেষে মলাট খুলেই আনসার আলীকে নিয়ে বসি। 'ফুল, পাখী ও অন্যান্য' নিয়ে বসি। আবার আমার সাথে এসে সম্পর্ক করে 'অন্য'রা। সম্পর্ক করে সব্যসাচী হাজরা, বইয়ের প্রচ্ছদ শিল্পী, সম্পর্ক করে তৌহিদ এনাম ফাউন্ডেশন, বইয়ের প্রকাশক। সম্পর্ক করল ভূমিকায় লেখা আনসার আলীর কথাগুলো। আনসার আলীর কবিতার সাথে এদের কোনও সম্পর্ক নাই। অন্তত কবিতা পড়ার সময় সে সম্পর্ক রাখতে নাই।

সব ভুলে আমি কবিতায় ঢুকলাম। কবিতা পড়লাম। আমি এক ঝটকায় পাখির কাছে, ফুলের কাছে চলে গেলাম। চলে আসলাম। তাদের কাছে আমার মনের কথা খুলে বললাম। পাখিরা বলল। আমি শুনলাম। আমি সম্পর্ক করলাম। আনসার আলীর কবিতার মতো সহজ সম্পর্ক। তোমাকে উঠানে না দেখার মানে তুমি কিশোরগঞ্জ চলে গেছ। এমনই সহজ সেই সম্পর্ক। কী অনায়াস! কী দায়িত্বহীন! কী সুন্দর! একটি কবুতরের সকালে গিয়ে দুপুরে আধার নিয়ে ফিরে না আসার মানে আজ সবুজে গোলাগুলি হয়েছে। এইসব সূতা, এইসব সম্পর্ক পুঁজি করে এগিয়ে যাই, এগিয়ে যেতে থাকি। কিন্তু সূতা ছিঁড়ে আমার আর ফিরে আসা হয় না। আমি কেবল এগিয়েই যাই। সম্পর্ক করি। সহজ সমীকরণ করি। বীজগণিতের মতো সম্পর্ক করি। আমার সামনে চশমার পাওয়ার আর চশমার দামের সাথে গাণিতিক সম্পর্ক হয়ে ঝুলে থাকল দাদা ম্যাচ, ঝুলে থাকে ইনকাম ট্যাক্স। আমি তারে পারি না এড়াতে।

কোনও একদিন একজন যুবকের যুদ্ধে চলে যাবার সাথে আজকে তার আর তার পরিবারের অনাহারে থাকার কি সহজ সম্পর্কই না চিরন্তন হয়ে গেল আমাদের সবার অজান্তে। স্থায়ী হয়ে গেল। আমরা তা হতে দিলাম। আমরা এর অন্যথা হতে দিলাম না। হারান মাঝির মৃত বউয়ের পোড়ার সাথে সোনার গান্ধী মুর্তির যেমন সম্পর্ক, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির লোহালক্করের মাঝে বসে যন্ত্রের প্রবল শব্দের সাথে সাথে দম নিয়ে সজোরে কবিতার পড়ার সম্পর্কও একই। অথবা এখন আমাদের শহরে মৃত মৃত বাগানে তাজা কারনেশন ফুল ফোটার সাথে সিরাজগঞ্জের পোতাজিয়ার চরে বক্কর মিয়ার দুই হাঁটুর মধ্যে ধরা মাটির দোনায় শুকনা গাভীর ওলান থেকে টেনে বের করা দুধের চড় চড় শব্দের খুব ছোট কিন্তু গভীর একটা সম্পর্ক রয়েছে। শনিগ্রহের একবার সূর্য প্রদক্ষিণের সাথে সম্পর্ক রয়েছে বকুল ফুলের মাঝখানের গর্তে, গর্ভাধানে একফোঁটা শিশিরের নিঃশব্দে গড়িয়ে ঢুকে যাওয়ার।

আর আমরা কি না সম্পর্ক খুঁজি বিগব্যাঙের সাথে ঈশ্বরের। পৃথিবীসৃষ্টির। কিংবা হয়ত ভালো থাকা না থাকার সাথে রাজনীতির। সাম্যের। কী এমন এসে যাবে এইসব ছেঁড়া সূতার মিহি সম্পর্ক খুঁজে না পেলে? দুটি চোখ খুলে সাবলীল আর নির্মোহ ফিকিরে দেখে গেলেই তো হয়, কেমন করে শহরের মধ্যিখানে এক একটা আস্ত মানুষ বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এক একটা সঙ্গীহীন দীর্ঘ দেবদারু গাছ?

Friday, January 2, 2009

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নীতিমালা

শক্তিশালী গণসংযোগ মাধ্যম হিসাবে রেডিও এবং টেলিভিশনের দায়িত্ব অপরিসীম। তথ্য পরিবেশন, শিক্ষা প্রসার, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সকলকে উদ্বুদ্ধকরণ ও নির্মল আনন্দদান। এই চারটি ব্যাপারই হবে অনুষ্ঠান প্রচারের মূল লক্ষ্য। এই চারটি মূল লক্ষ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে রেডিও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টেলিভিশন নিম্নবর্ণিত নীতিমালা অনুসরণ করবেঃ

১। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠান রচনা করতে হবে।

২। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি সম্পর্কে জনসাধারণকে শিক্ষিত/অবহিত করে তাদেরকে রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও সর্বোপরি দেশপ্রেমের চেতনাসম্পন্ন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৩। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রকাশ ও বিকাশ সাধন করতে হবে।

৪। দেশী সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের আবহমান নিজস্ব মুসলিম সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাবধারার প্রতিফলন, বাংলাদেশী সংস্কৃতির সঙ্গে জনসাধারণের নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ধারাকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে বাংলাদেশ সংস্কৃতির সুষ্ঠু প্রতিফলন ও পরিবর্ধনের চেষ্টা করতে হবে।

৫। সকল ধমর্ীয় অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হবে। কোন জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায় বা ব্যক্তি বিশেষের প্রতি কোনরূপ অবমাননা, স্লেষ, কটাক্ষ বা সমালোচনা করা যাবে না এবং সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করতে হবে।

৬। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, বিশেষ করে স্বেচ্ছাভিত্তিক অংশগ্রহণ জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং এই লক্ষ্যের বাস্তবায়নে আলোচনা অনুষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ওপর যথাসম্ভব সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপিত করতে হবে। শ্রমের মর্যাদা ও কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য নিজ হাতে কাজ করা যে অবমাননাকর নয় এবং এজন্য কোন পেশা বা বৃত্তি যে হেয় নয়, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তুলতে হবে।

৭। সংস্কৃতি ও চিত্তবিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের সঠিক মূল্যায়ন করে শ্রোতা দর্শকদের নির্মল আনন্দ পরিবেশনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বাংলাদেশী সংস্কৃতির সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিল্প ও শিল্পীদের অনুসন্ধান ও আবিস্কার করে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করতে হবে এবং জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

৮। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার যোগ্য মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের এবং এই উদ্দেশ্যে সঠিক বাংলা উচ্চারণের একটি আদর্শ মান স্থাপনের চেষ্টা করতে হবে। সংবাদ পাঠ ও অনুষ্ঠান ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনক্রমেই উচ্চারণের মান শিথিল করা যাবে না।

৯। রেডিও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান মূলতঃ বাংলায় প্রচার করা হবে। সামগ্রিক অনুষ্ঠান নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে সংবাদ, বিদেশী ছায়াছবি ও সংগীত প্রচারিত হবে এবং বিনিময় অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে এই নীতি শিথিল করা যাবে ।

১০। নাটক, লোক সংস্কৃতিমূলক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে, তবে কোন ক্রমেই কোন অঞ্চলের প্রতি কটাক্ষ করার জন্য আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।

১১। কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার আন্দোলনে জনসাধরণকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক ও অন্যান্য কমর্ীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাধরণ মানুষের সমস্যা ও তাদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

১২। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভয়াবহতা সম্পর্কে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে সদা সচেতন রাখতে ও এ সম্পর্কে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। শালীনতা, রুচি ও দেশীয় কৃষ্টির প্রতি যথেষ্ট দৃষ্টি রেখে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রচার করা হবে।

১৩। দেশের প্রতিটি নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষর হতে সচেতন ও আগ্রহী করার জন্যে অনুষ্ঠান রচনা ও প্রচার করা হবে।

১৪। জনসাধারণকে দেশের শিল্পের উন্নয়ন ও দেশের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উদ্বুদ্ধ করে তুলতে হবে।

১৫। যুব সম্প্রদায়ের সৃজনশীল চিন্তাধারা ও শক্তিকে কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের পথ নির্দেশ দিতে হবে এবং তাদের সমস্যা সমাধানের ফলপ্রসূ ইঙ্গিত প্রদান করতে হবে।

১৬। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধমর্ীয় তথা সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের সমমর্যাদা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহিলা সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যেন মহিলা সমাজ আমাদের জাতিকে প্রত্যয়দীপ্ত রাখার ব্যাপারে সত্যিকারের অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

১৭। শিশুদের সৌজন্য শিক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, ধর্ম, সমাজ ও জাতীয় জীবনের এবং বিশেষ করে ইসলামের মহাপুরুষদের আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। ছোটদের অনুষ্ঠানে ভাই-বোন, পিতা-মাতা, বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রতিবেশীদের সাথে শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতামুলক সম্পর্কের প্রতিফলনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ছোটদের অনুষ্ঠানে পরনিন্দা, বিবাদ, কলহের দৃশ্য পরিহার করতে হবে। দেশপ্রেম ও চরিত্র গঠনের সুশিক্ষা প্রদানের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

১৮। নৈতিকতাবোধের উন্নয়ন, সামজিক কুসংস্কার থেকে মুক্তি এবং সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ অবদমনের দায়িত্ব পালন করার লক্ষ্যে সকল প্রকার দুনর্ীতি দমন ও সমাধানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করতে হবে।

১৯। অনুষ্ঠানে কোন প্রকার অশোভন উক্তি উচ্চারণ করা যাবে না।

২০। অনুষ্ঠানে সরাসরি বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা মতামত প্রচার করা যাবে না।

২১। অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সততা, আনুগত্য, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মিতব্যয়িতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ ফুটিয়ে তুলতে হবে।

২২। জাতীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মচারী এবং জনসাধারণকে দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সচেতন করে তুলতে হবে।

২৩। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মনোভাব জাগরূক করে তুলতে হবে।

২৪। কোন মানুষ বা প্রাণী নির্যাতনের দৃশ্য অনুষ্ঠানে প্রচার করা যাবে না। নাটকের প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষেত্রে এই নীতি শিথিল করা যেতে পারে।

২৫। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ও সর্বজনস্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা গৌরবান্বিত করতে হবে।

২৬। দেশী ও বিদেশী ছবি/অনুষ্ঠানে অশ্লীল চুম্বনের দৃশ্য সর্বতোভাবে পরিহার করতে হবে। হিংসাত্মক, সন্ত্রাসমূলক এবং আমাদের সাংস্কৃতিক মুল্যবোধের পরিপন্থী কোন অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।

২৭। বিজ্ঞাপনে প্রদত্ত পণ্যের উৎকর্ষ প্রচার করতে গিয়ে অন্য কোন পণ্যকে হেয় করা যাবে না। বিজ্ঞাপনে কোন অশ্লীল বা অশোভন দৃশ্য বা উক্তি থাকতে পারবে না।

[এনবিএ (চেয়ারম্যান)/০৩/৮৫, তারিখ: ০১-০১-১৯৮৬]